৯/১০/১০

৪০

চামড়া কেটে তাঁর বসে যাচ্ছে আঙুল,
নিষ্পাপ সুখে নগণ্য ভুল
সেঁটে গেছে কৌটোভর্তি আগুনে,
নৌকোকে মাঝ বরাবর ছিঁড়ে
আবার খুচরোতেই মেলেন শেষে ;

যা কিছু ছিঁড়ে নিচ্ছেন,
সম্পর্কের শরীর কেটে
ছুঁড়ে দিচ্ছেন দু'পাশে
উনিই আবার জুড়ে দিচ্ছেন প্রকৃত জীবন
গেঁথে দিচ্ছেন সুখ আর দুঃখের বাতুলতায় ;

কথা দেননি তবুও উনি থাকবেন,
আমাদের ছাড়া উনার চলবেই না ।

৩০/৯/১০

৩৯

পড়শু সন্ধ্যেবেলা
আমি, আর সব মানুষ মিলে আকাশে তাকিয়েছিলাম
সবচাইতে প্রতিথযশা পাগল, সে-ও
বলা নেই কওয়া নেই কেবল কাঁদল
গাঢ় এক কবি ঠিক যেভাবে হাসে;
আজ ভোরেও দেখি হাজার হাজার কাক
সে কি বিশ্বাস !
ডানা ধরাধরি করে বসে থাকে জানলার অল্প দূরে
আমি ভান করি একটু মানুষ !
আড়মোড়া ভাঙ্গি মুখে-চোখে জল
রোদে যদি ভেসে যায় সমস্ত ঘর !

মনে পড়ে অকারণ
বিস্মৃত সহস্র স্বজন
কেঁপে কেঁপে গানের ফাঁকে দুঃখ লিখি
কেননা কর্তিত ঘাস আর কৃষ্ণচূড়া এত বেশি !
এত বেশি সুখ, যে অপরাধী লাগে
এত বেশি ভাল থাকা, যে কান্না পায় ।।

২৮/৯/১০

৩৮

ভেঙ্গে পড়া নতুন এক ছাউনীর তলায়
বৃষ্টির থেমে যাওয়া দেখি
আর নিজের অনুপস্থিতি গিলে ফেলি,
কোত্থেকে প্রকান্ড এক শূন্য
রুমালের ভেতর লটকে
চটকে গেছে পেছনের পকেটে
আর লেগে লেগে ঝুলছে যৌবন,
এরপরও কর্পোরেট দালানগুলোর পাশে
সম্পূর্ণ একা অবস্থায় দাঁড়াতে দাঁড়াতে
শিউরে উঠছি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ঢাউস চিৎকারে,

কবুতরগণ আজকাল মোটামুটি সুখী
পেটের উপর পরিচয় ঝুলিয়ে
ধীরে ধীরে উঠে যায় বারান্দায়
রাস্তায় দাঁড়িয়েই চা খেতে খেতে
আর বিজ্ঞজনের বকবক শুনতে শুনতে দেখি
সবথেকে বিরক্তিকর লোকটার মুখে
দু'নম্বর সিগ্রেট ।।